চাকরি ও একটি ঈদের গল্প


জানুয়ারিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ। ইন্টার্নশিপের আগে থেকেই ভালো একটি চাকরির খোঁজে ছিলাম। কিন্তু দুয়ে দুয়ে চার হচ্ছিল না। তাই চাকরিও মিলছিল না। টানা পাঁচ মাস বেকার ছিলাম ! এই সময়ে বেকারত্বের স্বাদ হারে হারে টের পেয়েছি। তবে এই সময় বেকারত্বটা উপভোগও কম করি নি। সারাদিন ঘুম, সন্ধ্যায় আড্ডা, আর সারারাত ফেসবুকিং, ব্লগিং আর বিডি জবস এ চাকরির সন্ধান করা।

এই সময়ে মেন্টালি অনেক ডিপ্রেসড ছিলাম। কারণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রতিকূলে ছিল। আর ফাইন্যান্সিয়াল সাপোর্টটাও অনেক দুর্বল ছিল তখন। তখন অনেকেই প্রাইভেট পড়ানোর সাজেস্ট করেছিলেন। কিন্তু আমার অতিদ্রুত রেগে যাবার স্বভাবের কারণে পূর্বের প্রাইভেট পড়ানোর অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো না। তাই ওই দিকে মোটেও আগ্রহ ছিল না।

এর মাঝে অবশ্য কয়েকটা জব পেলেও তা আর করা হয়ে ওঠে নি। কারণ ওই যে বললাম দুয়ে দুয়ে চার হয়ে ওঠে নি। প্রথম জবটা পেয়েছিলাম মার্কেটিং এর। আমার মেজর মার্কেটিং এ হলেও প্রথমেই টার্গেট বেজড আর এতো চ্যালেঞ্জিং জব দিয়ে শুরু করতে একটু ভয় পেয়েছিলাম, তাই আর জয়েন করিনি। তারপর একটা ভিসা কাউন্সেলিং এর কোম্পানিতে জব এর কল পেয়েছিলাম। শর্ট লিস্টেড হয়েও শেষ পর্যন্ত জবটা পাই নি ! কারণ? কারণ সিভিতে ভাব নিয়া হবি’র জায়গাতে ব্লগিং লিখেছিলাম ! এরপর এক ভাইয়া একটা জব হাতে তুলে দেবার পরও তা করতে পারি নি শুধু রবিবারে ছুটি থাকার কারণে। তারপর পেলাম এয়ারটেলের কল সেন্টারে জব। কিন্তু সেখানেও টাইমিং এর কারণে আর জয়েন করা হয় নি। ওরা পড়ালেখার ব্যাপারে কোন ছাড় দিতে নারাজ। আর এদিকে আমি এমবিএ তে ভর্তি হবার কারণে আমার কিছু বাইন্ডিন্স ছিল।

বেকার থাকাকালীন চারিদিকে অন্ধকার লাগছিল। সিভি আর ছবি প্রিন্ট করতে করতে ফতুর অবস্থা ! অনেকে যেমন আশা যুগিয়েছেন তেমনি অনেকে ফাপরও দিয়েছেন অনেক আবার অনেকে তখন অনেক বাজে কথাও বলেছেন ! কনফেশন পেইজে কে যেন ঘটা করে আমাকে নিয়ে একটা কনফেসও করেছিলেন। আমি তখন তেমন কিছুই বলি নি। কারণ তখন বলার মতো কিছুই ছিল না। তার উদ্দেশ্যে এখন বলছি, “ আগে বাপের টাকায় খাইতাম আর এখন নিজের টাকায় খাই। সুতরাং আমার সম্পর্কে কিছু বলতে হইলে আগে একশত বার চিন্তা কইরা নিয়েন। আর নাইলে…

বেকার থাকাকালীন দুইটা পোস্টও লিখেছিলাম চাকরি নিয়েঃ

আমার গ্রাজুয়েশন এবং পরবর্তী ভাবনা

চাকরির বাজারে কেন এতো বৈষম্য ???

ব্লগার কাল্পনিক ভালোবাসা ভাইয়াও তার চাকুরী প্রার্থীদের সাথে এই নির্মম রসিকতা গুলো কবে বন্ধ হবে?? জাতি হিসেবে এই লজ্জায় দা্য়ভার আমরা কিছুতেই এড়াতে পারি না।নামক একটি লেখাতে চাকরিপ্রার্থীদের কিছু দুর্দশার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন।

এরমাঝে আবার ব্যাংকার ব্লগারদের সাথে কথা বলে আর আড্ডা দিয়ে ব্যাংকার হবার ভূত মাথায় চাপছিল। একটা ব্যাংকে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, কিন্তু তাতে চাঞ্চ পাই নি। আর একটাতে পরীক্ষা দেবার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম, তখনই চাকরিটা পেয়ে যাই। তাই আর পরীক্ষা দেওয়া হয় নি !

সব শেষে জুলাই মাসেই পেয়ে গেলাম সেই কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিন ! আলহামদুলিল্লাহ্‌। একটা টেলিকম কোম্পানিতে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে জয়েন করলাম। দেখতে দেখতে এক মাস হয়ে গেলো।
স্যালারিও পেয়ে গেলাম ঈদের ছুটির আগের দিন।
Click This Link

প্রথম স্যালারি পাবার অনুভূতিটাই আসলে অন্য রকম। তার সাথে যোগ হয়েছে ঈদের আনন্দ। বাড়িতে যাবার পর একটা মুরুব্বিয়ানা ভাব চলে আসছিল। পিচ্চি পাচ্চারা এইবার আবার ধরেছিল সালামি দেবার জন্য। সালামিও দিতে হল। বেশ উপভোগ্য ছিল ব্যাপারটা। আর গৌরনদীর দই আর মিস্টি থেকে গৌরনদী’র কেউ বাদ যায় নি। আর যদি কেউ বাদ গিয়ে থাকে তবে আসছে ঈদে সেটা পূরণ করে দিবো ইনশাআল্লাহ্‌।

সাবেক আমার মতো ব্যাক্তিদের উদ্দেশ্যে কিছু কথাঃ 

০১. নিজের উপর আস্থা রাখাটা জরুরী। যতোই খারাপ ছাত্র হন না কেন নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে সব হবে।

০২. ভাইভা বোর্ড এ কনফিডেন্ট থাকতে হবে। ভাবটা এমন রাখবেন এইরকম চাকরি প্রতিদিন আপনি দু চারটা অফার পান !

০৩. বিডি জবস এ জব খুঁজবেন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি আপনি ইন্টার্ভিউ এর জন্য কল পাবেন! আমি যে কয়টা জবের কল পেয়েছিলাম সবগুলোই বিডিজবস থেকে এপ্লাই করার ফল !! কারো লবিং এ না !!!

০৪. ভুলেও সিভিতে ব্লগ সম্পর্কিত কিছু দিবেন না ! বাংলাদেশে এখন ব্লগের নেগেটিভ ইম্প্রেশন চরমে ! আমাকে একটা ইন্টার্ভিউ বোর্ড এ পঞ্চাশ মিনিটের চল্লিশ মিনিটই ব্লগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল ! মনে হচ্ছিল আমাকে তারা কোন ব্লগের মডারেটর হিসেবে নিয়োগ দিবে !

০৫. কল সেন্টারের জবে জয়েন করার আগে একটু ভেবে নিবেন।

পরিশেষে কিছু মানুষের কথা না বললেই নয়। আমাকে আমার খারাপ সময়ে সাপোর্ট দিয়েছেন বন্ধু সাকিব (ব্লগার দুঃখিত), রাজিব, আরিফ, স্নিগ্ধ শোভন, ব্লগার কা_ভা ভাইয়া, আমিনুর ভাইয়া, কান্ডারী ভাইয়া, অভি ভাই, বাবু ভাই, কুনোব্যাঙ ভাই, মাসুম ভাই, মামুন ভাই, শিপু ভাই, অপু তানভীর,কালোপরী আপু, ইহতিব আপু, সাগর ভাইয়া, সোনাবীজ ভাই, তাসজিদ ভাই, মাক্স ভাই, তানিয়া আপু, মূর্খ ভাই, আর হক ভাই, সুষমা আপু, রঙ তুলি ক্যানভাস আপু, দিবাপু, অনিন্দিতা, এক টুকরো মেঘ, বটবৃক্ষ আপু, আমিভুত আপু, মানিক ভাই, পাইলট ভাই, শফিকুল ভাই, ফারজুল ভাই, চেয়ারম্যান ভাই, আরজুপনি আপু সহ যারা আমাকে মেন্টালি সাপোর্ট দিয়েছেন তাদেরকে শুধু ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করছি না শুধু অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে একরাশ কৃতজ্ঞতা। 
খারাপ সময়ে যারা সাথে থাকে তারাই প্রকৃত বন্ধু! 

– একজন আরমান
১০/০৮/২০১৩
বরিশাল

Advertisements

About একজন আরমান

I don't know well about me ! Trying to discover myself at every moment !!! Life is so much colorful. Enjoying the colors. :)
This entry was posted in কিছু সৃতি অমলিন.... Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s