বর্তমান সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও আমার একান্ত কিছু বক্তব্য


গত ০৬ জুন, ২০১৩ – মোট ৬ হাজার ৪১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে জাতীয় গ্রিডে, যা এ যাবৎ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন। 
এর আগে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল গত বছরের ৪ অগাস্ট, ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বতর্মান মহাজোট সরকারের প্রধান অংশীদার আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ২০১৩ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়াবে সাত হাজার মেগাওয়াটে। 

পিডিবির হিসাবে বর্তমান সরকারের সময় প্রায় ৩৮০০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনহলেও চাহিদা ও জোগানের মধ্যে পার্থক্য রয়েই গেছে।

২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পরই বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনা এবং কর্মকাণ্ড শুরু করে।

এরপর শুরু হয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি। মে পযন্ত ৬৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৮ হাজার ৭৪৯ মেগাওয়াট।

২০০৯ সালের জানুয়ারির পর দেশে তিন হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আরো ৩২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। এগুলো থেকে আসবে ৬ হাজার ৩৪৪ মেগাওয়াট। এছাড়াও ২১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বানের কাজ চলছে।

প্রায় ৩০ লাখ নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ পেয়েছেন। দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

আমার একান্ত কিছু বক্তব্যঃ

অনেকেই দেখি কথা তোলেন আওয়ামীলীগ এইটা করছে সেইটা করছে বলে অথচ কারেন্ট তো ঠিক ই যায়। তাও বার বার। সেদিন এক ছোট ভাই ফেসবুকে লিখছে – একটু আগে কারেন্ট আসছিল এখন আবার গেছে। আবার নাকি এই সরকার ক্ষমতায় আসার চিন্তা করে। 

আমার কথা হল সরকার ক্ষমতায় আসুক বা না আসুক সরকার বিদ্যুতের ব্যাপারে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার পূরণে যথাসাধ্য কাজ করেছে এবং তারা সফল। প্রতিশ্রুত সাড়ে সাত হাজারের সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে উৎপাদিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদিতও হয় এই সময়ে।

অনেকের কথা এইযে এতো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তা যায় কই?
আমি বলছি এবার শুনুন কই যায় এতো বিদ্যুৎ।

আচ্ছা একটু হিসেব করে দেখেন তো ৭/৮ বছর আগের কথা-
তখন কি মানুষ এতো বেশি ছিল?
তখন মানুষ কি এখনকার মতো এতো ইলেক্ট্রিক গ্যাজেট ব্যাবহার করতো?
তখন একজন রিক্সাওয়ালার ঘরে টিভি চিন্তা করা অসম্ভব ছিল। আর এখন টিভি, মোবাইল সহ আরও ইলেক্ট্রিক গ্যাজেট অনেক সহজলভ্য। মধ্যবিত্ত পরিবারে আগে ফ্যান ই ছিল একমাত্র ভরসা আর এখন এসি, আইপিএসও দেখা যায়। এরকম আরও হাজারো ইলেক্ট্রিক গ্যাজেটের সাথে আমরা দিন দিন যুক্ত হচ্ছি। আর এর সবগুলোই বিদ্যুৎ নির্ভর।

আবার যে সব এলাকায় সিএনজি নেই সেইসব এলাকাতে আমরা ব্যাটারি চালিত ছোট ছোট গাড়ি দেখি। এইগুলো প্রচুর পরিমানে বিদ্যুৎ খরচ করে। অথচ আগে কিন্তু এই যানবহনগুলো এদেশে ছিল না।

এক শ্রেনীর দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর কারনে অনেক কোম্পানী বিপুল পরিমান বৈদ্যুতিক বিল ফাঁকি দেয়, আবার আমাদের নিজেদের মাঝেও চুরি করার প্রবনতা কম নেই। চার পাঁচশো টাকা দিয়ে হাজার হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল ফাঁকি দেই ! এইভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে চললে তেমন একটা লাভ নেই, কারন তলাবিহীন ঝুড়িতে আম রাখলে সেই আম বাজার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার আগেই ঝুড়ি খালি হয়ে যায়।

পরিশেষে এটাই বলতে চাই যে, আমাদের সকলকে বুঝতে হবে চাহিদা ও জোগানে সামঞ্জস্য আসতে দেরি হবে কিছুটা। কারণ দেশের জনসংখ্যা এবং জীবন যাত্রার মান বেড়ে চলেছে সবারই আর সেকারণে সবাই কমবেশি যুক্ত হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের সাথে।
“চাহিদা ও জোগানে সামঞ্জস্য আসতে দেরি হবে কিছুটা” – এর মানে এই নয় যে উৎপাদন কমে গেছে বা থেমে আছে। উৎপাদন কিন্তু বেড়েই চলেছে।

তথ্য সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪.কম

Advertisements

About একজন আরমান

I don't know well about me ! Trying to discover myself at every moment !!! Life is so much colorful. Enjoying the colors. :)
This entry was posted in সমসাময়িক. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s