আজ বন্ধু দিবস ! বন্ধুত্বের ১৫ বছর পূর্তি !!


আজ থেকে ১৫ বছর আগেঃ
বরিশাল জিলা স্কুলে চাঞ্চ পাই। তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হই। নতুন স্কুল, নতুন জায়গা, নতুন সবকিছু ! হঠাৎই তোর সাথে পরিচয়। শুরু হয় আমাদের বন্ধুত্বের পথচলা। 
স্কুলের মানিক-জোর ছিলাম আমরা। মনে আছে সেই মুটকুকে বোকা বানিয়ে আমরা স্কুলের পেছনে নিয়ে কি প্যাঁদানিটাই না দিয়েছিলাম। সরকারী স্কুলের পুকুরের মাছ আর গাছের ডাব কিংবা নারিকেল আমাদের জন্য চুরি করে খাওয়া ছিল হালাল। সেই ক্লাস ফাইভে থাকতে টিফিনের টাকা দিয়ে সিজারস, বাংলা ফাইভ, গোল্ড লিফ কিংবা বেন্সন কিনে পোড়া বাড়িতে গিয়ে আমাদের ধুমাপানের শুরু ! যেখানে ছেলেরা ভূতের ভয়ে যেতো না সেখানে আমরা কতো কিছুই না আবিস্কার করেছিলাম। স্কুলে ফুটবল টুর্নামেন্ট ছাড়া আমাদের ব্যাবসায়ের প্রথম ধাপ ছিল। সেই থেকেই ব্যাবসায়কে ভালোবাসা। সাইকেলে করে দুজন পলাশপুর, আমানতগঞ্জ, সাগরদি ঘুরতে যাওয়া। ফেরিতে কিংবা নৌকায় করে কাউয়ারচর যাওয়া। কোচিং এ পড়তে গেলে ইগলু বল আইসক্রিম এর বলের মধ্যে ইটের টুকরা ভরে ক্যাচ ক্যাচ খেলতাম। একবারের কথা মনে আছে একটাকে দুইজন বেঞ্চের মধ্যে চাপিয়ে মেরেছিলাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড স্যার আমাদের ডেকে নিয়ে পিটালেন। পরে ওইটারে আবার সাইজ দিয়েছিলাম। আক্কাস স্যারের বাসায় পড়তে যাবার আর মাহমুদ স্যারের বাসায় ছবি আঁকতে যাওয়া বিনোদনের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে আমাদের দেওয়া সেই সব টাইটেল – পুপু রাজিব, পিকু সাইদ, মাখন লাল, পিচকি সুলতান আরও কতো যে টাইটেল ! একদিন জগলুল আমাদের সিগারেট খেতে দেখে ব্লাকমেইল করতে চেয়েছিল, মনে আছে কিভাবে ওকে সাইজ দিয়েছিলাম। স্কুল পলাতে গিয়ে তাড়কাটায় একবার আমার হাত ছিলে গিয়েছিল। স্কুলের গাছের সব ফলগুলো মনে হয় আমাদেরই জন্য ছিল। কেন যে অন্যরা খেতে পারতো না ! মনে আছে ২ টাকার চটপটি, ৫ টাকার খিচুড়ি বা মাঝে মাঝে ১০ টাকার বার্গারের কথা? আর এখন ওই চটপটি খেতে গেলেই অন্তত ২০ টাকা লাগবে !স্কুলের সামনের সেই খাল স্বরূপ ড্রেনটা এখন পাকা হয়েছে। সেই ব্রিজটাও এখন নেই। নেই আনন্দ কনফেকশনারীও ! তবুও এখনও গেলে তাকিয়ে থাকি স্কুলের দিকে। মাঝে মাঝে উঁকি দেই। খুঁজে ফিরি আমাদের ছেলেবেলা।

আজ থেকে ৯ বছর আগেঃ
যখন তুই ক্লাস এইটে উঠলি তখন জিলা স্কুল খুলনা মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলে চলে গেলি। তখন আঙ্কেল আন্টির উপর আমার অনেক রাগ হয়েছিল। মাঝে মাঝে কান্নাও করতাম তোর জন্য। কখনো বলিনি। আজও বললাম না, লিখেই ফেললাম। খুব খারাপ লাগতো। কারণ আমি খুব অসামাজিক টাইপের ছিলাম। তুই ছাড়া অন্য কারো সাথে তেমন মিশতাম না। কিন্তু তুই যাবার পর সেটা পরিবর্তিত হয়। এখন বুঝি আমিও যদি খুলনা চলে যেতাম তবে আমার ভালোই হতো। কারণ সেই ক্লাস এইটের পর যে আমার রেজাল্ট এর ধস নামা শুরু হয়েছিল তা শেয়ার বাজার ধসের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর ছিল। যেটা আমার ইন্টার পর্যন্ত চলে ! মোবাইল ফোনও ছিল না, যোগাযোগের কোন উপায়ও নেই। তুই খুলনা আর আমি বরিশাল।

আজ থেকে ৭ বছর আগেঃ
তুই ঢাকা আমিও ঢাকা। একই শহরে দুই জন কিন্তু কারো সাথে কারো দেখা নেই। মোবাইল ফোন কেনা হল। তুই আমার নাম্বার পেলি। আমাদের আবার যোগাযোগ শুরু হল। কিন্তু দেখা অতোটা হত না।

আজ থেকে ৫ বছর আগেঃ
আমি ঢাকা আর তুই বরিশাল। তুই হঠাৎ কেমন যেন কোথায় হারিয়ে গেলি। কি সমস্যা কিছুই বলিস নি। এখন জানি যে তুই কি সমস্যায় ছিলি। এখন যেমন সব কিছু শেয়ার করিস, তখন যদি আমাকে করতি তাহলে হয়তো এতো টেনশন তোকে নিতে হতো না। কমাতে না পারতাম অন্তত তোর মনটা হালকা করতে পারতি তোর সব কষ্টের কথা বলে।

আজ থেকে ৪ বছর আগেঃ

ফেবু আর ইয়াহু ম্যাসেঞ্জারের কল্যাণে আমাদের আবার নিয়মিত যোগাযোগ হতে থাকে। তুই আবার ঢাকায় আসছিস। কিন্তু সময়ের যে বড়োই অভাব। তখন আমাদের মধ্যে মনে হয় অনেক দিন দূরে থাকার কারনে কিছু দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এটা মনে হবার কারণ তুই তোর কিছুই তেমন আমাকে বলিস নি। শুধুই এড়িয়ে গেছিস।

আজ থেকে ২ বছর আগেঃ
আমি তোর উত্তরার বাসাতে প্রথম যাই, তোর জন্মদিনে। আমাদের আবার নিয়মিত যোগাযোগ শুরু। এখন বলা চলে প্রতি সপ্তাহেই তোর বাসায় যাওয়া হয়। আড্ডাবাজি আর বাঁদরামি রিটার্নস !

আজ থেকে ৬ মাস আগেঃ
নিয়মিত তোর মিরপুরের বাসায় আসি দেখা করতে। আড্ডা দেই, গল্প করি, একসাথে ঘুমাই, একসাথে খাই, ঘোরাঘুরি করি। কতো শত গল্প। কতো কথা। আমার সব থেকে খারাপ সময়ে আমাকে গালি দিয়েছিলি। ধন্যবাদ সেজন্য। তোর সেই গালি আর সেই কথাগুলোই আমাকে নতুন করে বাঁচার পথ সুগম করে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আরও গালি দেয়া উচিৎ ছিল তোর। যাক আবার দেখা হলে দিয়ে দিস।

কয়েকদিন আগেঃ
তোর ক্যান্টনমেন্ট এর বাসায় আসলাম। তোর সাথে একসাথে ঘুরলাম, আড্ডা দিলাম, ডিনার করলাম, মুভি দেখলাম, গল্প করলাম আর ঘুমালাম আর কিছু একটা ভাবলাম…

যেটা ভাবলামঃ
আমাদের বন্ধুত্ব কিছুদিন পর ১৫ বছর। আশা করছি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই থাকবে। কিন্তু…

আজ থেকে ৫/৬ বছর পরঃ

যখন তুই বিয়ে করবি, আমি বিয়ে করবো। আমাদের ফ্যামিলি হবে। তখন কি আমরা এই রকম ফ্রী থাকব? একসাথে আড্ডা দেওয়ার সময় পাব? একসাথে ঘোরার সময় পাব? হবে কি একসাথে মুভি দেখা, গল্প করা? জানি না… কিন্তু আশা করছি ফ্যামিলিকে সময় দিতে গিয়ে যেন আমরা আমাদের বন্ধুত্বটার আয়তনকে ছোট না করে ফেলি বা অন্য কোন কারনে আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে ফাটল না ধরে।

১৫ বছরের অনেক সৃতিই আজ মরচে পড়ে গেছে। আর অনেক সৃতি আজ অমলিন। সারাংশ এর মতো করে লিখলেও ৫০০ পাতায়ও শেষ হবে না। যাই হোক শেষে এসে বলছি-
বন্ধু আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর পূর্তির শুভেচ্ছা। এভাবে থাকতে চাই আজীবন।


উৎসর্গঃ সাকিব এস রাফি (দুঃখিত)

Advertisements

About একজন আরমান

I don't know well about me ! Trying to discover myself at every moment !!! Life is so much colorful. Enjoying the colors. :)
This entry was posted in কিছু সৃতি অমলিন.... Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s