এক দুঃসহ রজনীতে আমি হইলাম সাইজ। ( ১৮+ না তবে বাচ্চা ব্লগারদের না পড়াই ভালো )


কিছুদিন আগে বিশেষ কোন কারনে আমার মাথার কিছু তার কিঞ্চিৎ ছিড়িয়া যায়। তো মাথা সেইদিন পুরাই আউলাইয়া গেছিলো। আমার আব্বা এবং আম্মাজান সন্ধ্যার পর ঘুরতে বের হইয়াছিল। আমিও চা-নাস্তা খাইয়া রাস্তার দিকে অগ্রসর হইলাম। পথে এক ছোটো ভাই’র সহিত দেখা হইলো। শেষে তাহাকে নিয়া গেলাম বাজারের দিকে। ওইখানে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়া যখন আবার আমার বাড়ির রাস্তার সামনে আসিয়া পড়িলাম তখন এক প্রেমফল বিক্রয়কারীর হাকডাকে ছোটো ভাই সারা দিয়া উঠিল। সে যখন ওই বিক্রয়কারীর সহিত বাৎচিত করিতে ছিল, তখন আমি আমাদের রাস্তার পাশের দোকান থেকে একখান বেঞ্চু ধরাইয়া মনের দুঃখে ফুকিতে লাগিলাম।

ফুকিতে লাগিলাম আর আকাশ-পাতাল ভাবিতে লাগিলাম। ইতোমধ্যে আমার কানে গাড়ির হর্ন এর আওয়াজ প্রবেশ করিল। দেখি ড্রাইভার গলির মোড়ে দোকান খুলিয়া বসা চটপটি-ফুসকাওয়ালার সাথে কি যেন বাৎচিত করিতাছে। অবশেষে তাদের বাৎচিত শেষ হইলে ফুসকাওয়ালা তার বসার টুলগুলা সরাইয়া ফেলে এবং ড্রাইভার গাড়ি নিয়া গলির ভেতরে অগ্রসর হইতে থাকে। এমন সময় গাড়ির ভেতর থেকে একজন ভদ্রমহিলা তার স্বামীকে জোরে জোরে কি যেন বলিতে থাকে। আমি কিঞ্চিত উৎসুক হইয়া গাড়ির দিকে বন্ড স্টাইলে এক লুক দিলাম। কিন্তু অন্ধকার থাকায় ঠিক ঠাহর করিতে পারিলাম না যে উহারা কারা। হঠাৎ দেখি গাড়ি আমার সামনে আসিয়া থামিয়া গেলো।

আমি কিঞ্চিত ঘাবড়াইয়া গেলাম। মনে মনে অবশ্য বলিলাম যে হয়তো এলাকায় নতুন আসছে তাই আমার কাছে হয়তো কোন বাসার ঠিকানা জানতে চাইবে। এই ভাবিয়া আমিও আমার এলাকা, আমার ঘরের সামনে সগর্বে বুক ফুলাইয়া পুরা ডন স্টাইলে বেঞ্চু ফুকিতে লাগিলাম। এইবার দেখি গাড়ির গ্লাস কিছুটা থেকে পুরোটাই নামিয়া গেলো। তারপর যাহা দেখিলাম তাহাতে আমার জান আউটগোয়িং হইবার উপক্রম হইলো। দেখি আমার আমার আম্মাজান আমাকে বলিতাছে “কি রে তুই এইখানে কি করোস। ডন মুখের মধ্যে কেবলমাত্রই ধোয়া নিয়াছে। ছাড়িলেই সাড়ে সর্বনাশ হইয়া যাইবে ভাবিয়া সে চুপ করিয়া মাদাম তুসো জাদুঘরের মূর্তির মত দাঁড়াইয়া রহিল। কিন্তু আম্মাজান যখন আবারও হাক দিয়া উঠিল তখন ডনের মানে আমার নাক দিয়া ধোয়া আউটগোয়িং হইয়া গেলো। তখন দেখি আম্মাজান আমার আব্বাজানরে বলিতাছে দেখো দেখো তোমার ছেলের কাণ্ড দেখো ! অতঃপর আমার আব্বাজান ড্রাইভারকে বলিলেন “এই বাসায় যাও”।

আমি যেন হাফ ছাড়িয়া বাঁচিলাম। এতক্ষনে আমার মনে পড়িয়াছে যে তাহারা আজ বাইক নিয়া বাহির না হইয়া গাড়ি নিয়া বাহির হইয়াছে। অতঃপর আমি আমার সেই ছোটো ভাইকে কতোক্ষন ঝারিলাম। বলিলাম যে প্রেমফল না খাইলে এমন কি ই বা হইতো। তোমার তো মিয়া প্রেমিকারই কোন খবর নাই। প্রেমফল তোমার জন্য নহে। এরপর ঝারিলাম সেই ফুসকাওয়ালাকে। ওই বেটা যদি টুলগুলা রাস্তার মাঝে না রাখিতো তাহলে তো আর গাড়ি এই মাঝপথে থামিতো না। অবশেষে ঝাড়িলাম সেই দোকানদারকে। বলিলাম “বেটা দোকানের পিছনে বেঞ্চ বানাইতে পারিস না? তাহলে সামনে না বসিয়া পিছনে বসিয়া বেঞ্চু ফুকিতে পারিতাম। দুই দিনের মধ্যে যদি দেখি বেঞ্চ না বানাইছোস তাহা হইলে তোকে সামনের মাসে বিনা নোটিশে ঘরছাড়া করিবো। যদিও ঘরের মালিক আমি না আমার আব্বাজান।

অতঃপ দোকানদার আমার মাথা ঠাণ্ডা করিবার উদ্দেশে আরও একখান বেঞ্চু আর এক কাপ চা আমার হাতে ধরাইয়া দিলো। চা আর বেঞ্চু খাইয়া বাসার দিকে অগ্রসর হইলাম। বাসার আবহাওয়া জানিবার নিমিত্তে বন্ড স্টাইলে পলাইয়া পলাইয়া ছাদের উপরে অবস্থান করিলাম। দেখি আমার আম্মা ৪:১ স্পিকারের ফুল ভলিউমে আমাকে নিয়া চিল্লাইতাছে পুরা দমে। মনে মনে ভাবিলাম আমি হাফ ভলিউমে গান শুনিলেই আমার আব্বাজান মাঝে মধ্যে আমার সাথে কিরূপ আচরন করেন আর আজ সে তেমন কোন পদক্ষেপই নিতেছেন না। আব্বাজান আর আমার বউ থুক্কু আমার বউ না আমার দাদার বউ তাহাকে ঠাণ্ডা করিতে উদ্যত। এই যখন খেলার অবস্থা তখন আমি নিলাম ছোট্ট একটা বিরতি। মানে আমি এই ঝামেলা থেকে মাথা ঠাণ্ডা করতে গেলাম নদীর পাড়ে।

রাত ১১.৩০ এর দিকে আমি নদীর পাড় থেকে বাসার কাছে আসিয়া অবস্থান নিলাম। যখন বাড়ির কাছে আসিলাম তখন দেখি পুরাই ঠাণ্ডা ঘর। আমি ঘরে প্রবেশ করিলে দেখি টেবিলে ভাত বাড়িয়া রাখা। আর সবাই মনে হয় ঘুমাইতে গেছে। ছোটো ভাই দেখি খাটে শুইয়া শুইয়া মোবাইলে গেমস খেলিতাছে। সেও দেখি ভাব লইতাছে। পরে আমার খাওয়া হইলে আমি তাহার কাছে ঘটনার বিবরণ শুনিয়া কিছুটা আশ্বস্ত হইলাম এবং অতঃপর বিশাল একখান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিয়া ঘুমাইয়া পরিলাম।

উৎসর্গঃ

ঘুড্ডির পাইলট
মেহেদী হাসান মানিক
অপূর্ন
চেয়ারম্যান০০৭
জেমস বন্ড
নিয়েল হিমু
মাক্স
shafikul
তামিম ইবনে আমান

Advertisements

About একজন আরমান

I don't know well about me ! Trying to discover myself at every moment !!! Life is so much colorful. Enjoying the colors. :)
This entry was posted in কিঞ্চিত রম্য. Bookmark the permalink.

2 Responses to এক দুঃসহ রজনীতে আমি হইলাম সাইজ। ( ১৮+ না তবে বাচ্চা ব্লগারদের না পড়াই ভালো )

  1. সুপ্ত বলেছেন:

    ব্যপক বিনোদন পাইলুম 😀

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s